>

শেয়ার মালিকদের নিকট পরিচালকমন্ডলীর প্রতিবেদন

(কোম্পানী আইন-১৯৯৪, অর্থ আইন-২০১৫ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক প্রস্তুতকৃত)

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সম্মানিত শেয়ারহোল্ডারগণ,
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।

পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে ইসলামী ইন্সুরেন্স বাংলাদেশ লিঃ এর ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় আপনাদেরকে আনন্দের সাথে স্বাগত জানাচ্ছি। মূল্যবান সময় দিয়ে অদ্যকার সভায় উপস্থিত হওয়ায় আপনাদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এখন আমি আপনাদের সমীপে ২০২০ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব বিবরনী, নিরীক্ষকের প্রতিবেদন, বোর্ড অডিট কমিটির প্রতিবেদন ও পরিচালকবৃন্দের প্রতিবেদন উপস্থাপন করছি। পাশাপাশি বিশ্ব ও বাংলাদেশের অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থা, কর্মকান্ড ও সম্ভাবনার সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করছি।

বিশ্ব অর্থনীতি ২০২০:

বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা সম্পর্ক জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এপ্রিল এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে করোনা ভাইরাসের কারনে সৃষ্টি মহামারিতে ২০২০ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি ৪.৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ১৯২৯ এবং ২০০৯ সালের মহামন্দার চেয়ে করোনায় অর্থনৈতিক সংকোচন হয়েছে অনেক বেশী। জাতিসংঘের প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মহাসচিব ইলিয়ট হ্যারিম বলেছেন অভূত পূর্ব সংকটের গভীরতা ও তীব্রতা থেকে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে লকডাউন, কোয়ারেন্টিন এবং সামাজিক দূরত্ব জীবন বাঁচাতে সহায়তা করলেও বিশ্বব্যাপী কয়েক কোটি মানুষের জীবন জীবিকা ব্যাহত করেছে। এপ্রিলের মধ্যে সম্পূণ বা আংশিক লকডাউনে প্রায় ২৭০ কোটি শ্রমজীবি মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছে। যা বিশ্বের মোট শ্রমজীবি মানুষের প্রায় ৮১ শতাংশ। জাতিসংঘের হিসাব বলছে, মহামারি অন্ততঃ ১৩ কোটি ১০ লাখ মানুষকে দারিদ্রের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী, শিশু এবং প্রান্তিক জনগোষ্টীর মানুষ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন ২০২০ সালে ২.৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি করেছে। মার্কিন অর্থনীতি ২০২০ সালে ৩.৯ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। জাপানের অর্থনীতি ২০২০ সালে ৫.৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ২০২০ সালে অর্থনীতির সংকোচন হয়েছে ৭.৪ শতাংশ। উন্নয়নশীল দেশগুলো ২০২০ সালে ২.৫ শতাংশ অর্থনৈতিক সংকোচনের মুখোমুখি হয়েছে।

কোভিড-১৯ এর কারনে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে ২০২০ সালে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সামান্য হলেও বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়ছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করা বিভাগ ইউনাইটেড ন্যাশনস ডিপার্টমেন্ট অফ ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের বাংলাদেশের জিডিপি বেড়ে শূণ্য থেকে দশমিক পাঁচ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৪.৩ শতাংশ, ভারতে কমে হয়েছে ৫.৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ১.২ শতাংশ, ভূটানের ০ শতাংশ, নেপালের ০.৫ শতাংশ। কেননা মহামারীর কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জিডিপি প্রায় ১০ শতাংশ কমে যেতে পারে। দারিদ্র্য ও বৈষম্য দ্রুত গতিতে বাড়বে বলে আশঙ্খা করছে ইউ এন ডেসা।

বিশ্ব অর্থনীতিতে করোনার প্রভাবঃ

বিশ্বের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি যখন নিম্নমূখী ঠিক তখনই করোনার প্রাদুর্ভাব তছনছ করে দেয় পুরো বিশ্বের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যবস্থা। ছোট ছোট অর্থনীতির দেশতো বটে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, জামার্নী, ফ্রান্সের মত বড় বড় অর্থনীতির দেশেও এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশ্বব্যাপী শেয়ার বাজারের ধস, তেলের দাম হঠাৎ করে ব্যাপক পতন। বন্ধ হয়ে যায় আর্ন্তজাতিক ও অভ্যন্তরীন বিমান চলাচল, বিভিন্ন দেশের সীমান্ত পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় আর্ন্তজাতিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, কল কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে সার্বিক কর্মকান্ডে নেমে আসে এক অভাবনীয় স্থবিরতা। জনগনকে বলা হয় নিজ নিজ ঘরে আইসোলেশনে থাকতে। কোনো কোনো দেশে জারী করা হয় দেশব্যাপী লকডাউন।

করোনা ভাইরাসের কারনে বিশ্ব অর্থনীতিতে সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমান ৫.৮ ট্রিলিয়ন কোটি থেকে ৮.৮ ট্রিলিয়ন কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়াতে পারে। আর এই ক্ষতি বৈশ্বিক জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ৬.৪ শতাংশ থেকে ৯.৭ শতাংশ হবে। এডিবির মতে দক্ষিণ এশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) করোনা জনিত ক্ষতির পরিমান দাঁড়াবে ১৪ হাজার ২০০ কোটি থেকে ২১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের মতো। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে করোনা মোকাবিলায় কঠোর বিধি নিষেধের কারনে দক্ষিণ এশিয়ার জিডিপি ৩.৯ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ কমবে।

করোনা ভাইরাস মহামারির পর বিশ্ব অর্থনীতি স্বাভাবিক হওয়ার সময়ঃ

অর্থনৈতিক মন্দা ও তা থেকে পুনরুদ্ধারের সময় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থনীতিবিদগণ V U W অথবা L এর মত আকার নিতে পারে। সবচেয়ে ভাল আর্দশ হতে পারে V। খুব দ্রুত অর্থনীতি পড়ে যাওয়ার পর সেটা আবার সাথে সাথে খুব দ্রুত উপরের দিকে উঠে যাওয়া। এটা দেখতে ইংরেজী V অক্ষরের মত। কোভিড-১৯ রোগের কোন টিকা বা চিকিৎসা যদি দ্রুত আবিস্কার হয় তা হলে আমরা খুব দ্রুত V অক্ষরের মত আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারব।

মিঃ গ্রোনভাঁল্ড বলেছেন, এখন আমরা যে অবস্থা দেখতে পাচ্ছি তাতে মনে হচ্ছে, এ পুনরুদ্ধারের বিষয়টি U অক্ষরের মতো হওয়ার সম্ভবনাই বেশী। আবার এই U হয়তো আরও একটু বিস্তৃত হতে পারে। মুডির সর্বশেষ অর্থনৈতিক পূর্বাভাস হচ্ছে করোনা ভাইরাসের ক্ষতি ২০২১ সালের অর্থনীতি জুড়েও বয়ে যাবে।

কোভিড-১৯ প্রতিরোধের এখনও কোন টিকা আবিষ্কার হয়েছে কিন্তু সরবরাহের স্বল্প তার কারনে বিশ্বের সব মানুষ টিকার আওতা আসে নাই, ফলে উন্নত বা অনুন্নত স্বল্প দেশে করোনার আক্রান্ত হচ্ছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। অর্থনীতি পতন বা মন্দা ২ বার হতে পারে যা দেখতে ইংরেজী W অক্ষরের মতো, বলেন প্রফেসর টেসাডা। অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে দীর্ঘ সময় লাগবে। করোনা ভাইরাসের টিকা সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হবে। এই পরিস্থিতি ইংরেজী L আকৃতির। কত সময়ের পর বিশ্ব অর্থনীতি স্বাভাবিক হবে, তা দেখার অপেক্ষা থাকতে হবে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশঃ

বাংলাদেশ এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশটি হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি। ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণ সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনোমিকস এন্ড বিজনেস রিসার্চ তাদের সর্বশেষ এক রির্পোটে এই পূর্বাভাস দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড হকোনমিক লিগ টেবল, ২০২১ এই রির্পোট গত ২৫/১২/২০২০ইং তারিখে প্রকাশ করা হয়। এতে মূলত সামনের বছর এবং আগামী ১৫ বছরে বিশ্বের কোন দেশের অর্থনীতি কি হারে বাড়বে, তারই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। সিই বি আর প্রতি বছর এই রির্পোট প্রকাশ করে। এই রির্পোট অনুযায়ী আর মাত্র ৭ বছর পরেই চীন হবে বিশ্বের বৃহত্তর অর্থনীতির দেশ। ২০৩০ সালে ভারত হবে তৃতীয় আর ২০৩৫ সাল নাগাদ ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বহু ধাপ উপরে উঠে পৌঁছে যাবে ২৫ নম্বরে। ২০২০ সালে সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১ তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

সিই আই বি বলছে করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বেশির ভাগ দেশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, এর বিপরীতে চীন খুব কৌশলে করোনা ভাইরাস দ্রুত এবং কঠোরভাবে মোকাবেলার কারণে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। চীনের মতোই একইভাবে বাংলাদেশও যেহেতু করোনা ভাইরাসের মধ্যে কিছুটা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে, তাই সামনের বছরগুলোতে বাংলাদেশ ধারাবাহিক এবং জোরালো প্রবৃদ্ধি আশা করছে সিই বি আর। সিই বি আর রির্পোট বলছে, কোভিট-১৯ মহামারির শুরুর আগের বছরগুলোতে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল বেশ ভালো এবং এটা ঘটেছে দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধি থাকা সত্ত্বেও। গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়ছে গড়ে ১ শতাংশ হারে।

বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় কোভিট-১৯ যেভাবে ছড়িয়েছে সে তুলনায় বাংলাদেশে সংক্রমণ অনেক সীমিত রাখা গেছে। ডিসেম্বর মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে মারা গেছে ৭০৫২ জন। প্রতি এক লাখে মাত্র ৪ জন যদিও এই মহামারির কারণে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ছিল সীমিত, তা সত্ত্বেও অর্থনীতির উল্লেখ্য যোগ্য ক্ষতি করেছে এটি। মহামারির কারনে বিশ্বজুড়ে চাহিদা গিয়েছির কমে, আর আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।

জিডিপির হিসাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থা (তথ্য সূত্র: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবল ২০২১, সিই বি আর)

বিবরণ

২০০৫

২০১০

২০১৫

২০২০

২০২১

২০২৫

২০৩০

২০৩৫

জিডিপি বিলিয়ন টাকা

৪৫২৩

৬০৭১

১১০৫৮

১১৪৭৮

১১৯৮৩

১৫৯৭৯

২১৮৯৩

২৯৯৯৫

জিডিপি বিলিয়ন ডলার

৬৯

১১৫

৩০৩

৩১৮

৩৩৮

৪৪৮

৭৬০

১২০৩

বিশ্ব সূচকে অবস্থান

৫৭

৫১

৪৮

৪১

৪১

৩৪

২৮

২৫


তবে অন্য অনেক দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলেও বাংলাদেশ তা এড়াতে পেরেছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৮ শতাংশ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮.২ শতাংশ। সিই বি আর এর পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে ২০২১ সাল ঘটবে ৬.৮ শতাংশ হারে। তবে এর পরের দশ বছরে এই হার কিছুটা কর্মে গড়ে ৬.৫ শতাংশ হবে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৩৯ ডলার। এই হিসেবটা পি পি পি বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটিকে বিবেচনা করে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এখন একটি নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ বলে গণ্য করা হয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে করোনার প্রভাবঃ

এক ধরনের অনিশ্চয়তা নিয়েই শুরু হয়েছিল ২০২০। চীনে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন। বাংলাদেশের রপ্তানির ৬০ শতাংশেরও বেশি অংশে গন্তব্য ইউরোপে দ্রুত হারে বাড়তে শুরু করে করোনার সংক্রমন। যদিও তখনো ভাইরাসটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি কিন্তু এর সংক্রমনের ফলে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক সংকটের আঁচ তখন বাংলাদেশও অনুভব করতে শুরু করে। ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগীর শনাক্ত হওয়ার দুঃসংবাদটি ঘোষনা দেয় কতৃর্পক্ষ। এর কিছুদিনের মধ্যেই করোনা সংক্রমন মোকাবিলায় দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে এশিয়ার শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে থাকা বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে। মার্চে দ্বিতীয়াধে ১০ দিনেরও কম সময়ে পুঁজি বাজারে মূল্য সূচক ১৫ শতাংশ কমে যায়।

দেশব্যাপীর লকডাউন চলাকালীন লাখো মানুষ চাকুরী হারিয়েছে। দারিদ্রেও হার হয়েছে দ্বিগুণ, অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের সিংহভাগ মানুষের আয় কমে গেছে। আমদানিকারক দেশগুলো তাদের অর্থনীতি সচল রাখতে হিমশিত খাওয়ার ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশের রপ্তানীখাত। এই সময়ে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেছে এক নজিরবিহীন ত্রিপক্ষীয় সংকট। সেই তিনটি পক্ষ হলো- স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও খাদ্য। জনগণ ও অর্থনীতির সুরক্ষার বাংলাদেশ ঘোষণা করেছে এক লাখ বিশ হাজার কোটি টাকার প্রনোদনা প্যাকেজ। যা বিশ্বের অন্যান্য দেশে ঘোষিত সবচেয়ে বৃহৎ অঙ্কেও প্রনোদনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের বিভিন্ন ফার্ম ও ব্যবসায়গুলোকে সহায়তা করতে সরকার ঘোষিত এই ঋণের সুদের হার কম করা হয়েছে। সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে বাংলাদেশকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে বহু পাক্ষিক ব্যাংক ও দ্বিপাক্ষিক অংশীদাররাও।

জুনে দেশের অর্থনীতি পুনরায় চালু করায় সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সাহসী একটি পদক্ষেপ ছিল এবং যেহেতু এরপর করোনা ভাইরাসের সংক্রমন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। তাই এটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন, রেমিট্যান্স, প্রনোদনা প্যাকেজ, পুনরায় খোলা এবং অভ্যান্তরীন চাহিদা ও রপ্তানি বৃদ্ধি দেশকে পুনরুদ্ধারের পথেই নিয়েছে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ বলেছিল, কোভিড-১৯ মহামারি সত্ত্বেও ২০২০ সালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংকোচনের হাত থেকে বাঁচতে পেরেছিল।

বাংলাদেশের বীমাঃ

বীমা সেক্টর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। তৎকালীন ব্রিটিশ আমলে ১৯০৭ সালে প্রথমে বঙ্গ প্রদেশে বীমার প্রচলন শুরু হয়। বর্তমানে বীমা ছাড়া অর্থনীতি কল্পনা করা যায় না। বাংলাদেশে বর্তমানে ৭৮ টি বীমা কোম্পানী কাজ করছে। যার মধ্যে নন-লাইফ কোম্পানী ৪৬ টি এবং লাইফ কোম্পানী ৩২ টি। এই ৭৮ টি কোম্পানীর মধ্যে সরকারী মালিকানাধীন সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ও জীবন বীমা কপোর্রেশন এবং বিদেশী কোম্পানীর মেট লাইফ আলিকোর শাখা অফিস কাজ করছে। বিদেশের সংগে যৌথ মালিকানা কোম্পানী হিসাবে সম্প্রতি এল আই সি বাংলাদেশ লিমিটেড কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশে অনেক বীমা কোম্পানী ব্যবসা করলেও এখানে বীমা বাজার খুব একটা প্রসারিত হয়নি। জিডিপিতে বীমা অবদান মাত্র ০.৯ শতাংশ। এর মধ্যে ০.৭ শতাংশ জীবনবীমা এবং বাকি ০.২ শতাংশ সাধারণ বীমা। কিন্তু পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে জিডিপিতে বীমার অবদান উল্লেখযোগ্য। উদাহরণ স্বরূপ- যুক্তরাজ্যে এ খাতের অবদান ১১.৮ শতাংশ, ইউ এস এ ৮.১ শতাংশ, জাপান ৮.১ শতাংশ, হংক ১১.৪ শতাংশ, ব্রাজিল ৩.২ শতাংশ, চীন ৩ শতাংশ, ভারত ৪.১ শতাংশ, সিঙ্গাপুর ৭ শতাংশ। ওই সব দেশে বীমা ঘনত্ব (প্রিমিয়াম পর ক্যাপিটা) ইউকে ৪ হাজার ৫৩৫, ইউ এস এ ৩ হাজার ৮৪৬, জাপান ৫ হাজার ১৬৯, হংক ৩ দশমিক ৯০৪, ব্রাজিল ৩৯৮, চীন ১৬৩ ও ভারতে ৫৯ ডলার, যেখানে বাংলাদেশে প্রতি হাজারে মাত্র সাত জনের লাইফ পলিসি রয়েছে। বীমার এ পেনিট্রেশন অর্থাৎ জিডিপিতে অবদান ও ঘনত্ব দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে কম। বীমা সেক্টরে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, মানব সম্পদের যথাযথ মান, পেশাজীবি ও নীতি নিধার্রকদের সময়োপযোগী নির্দেশনা ও কার্যকরী প্রদক্ষেপ না থাকার কারনে বাংলাদেশে এ বীমা শিল্পটি সমৃদ্ধি লাভ করতে পারেনি। তবে বর্তমান সরকার বীমা শিল্পের উন্নয়নে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ গঠন এবং বীমা আইন ২০১০ প্রনয়ন করেছে। এর ফলে দেশের বীমা শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া বর্তমান সরকার জাতীয় বীমা নীতি ২০১৪ অনুমোদনের ফলে এদেশে বীমা শিল্পের অগ্রগতি বেগবান হবে। আমরা আশা করি সদাশয় সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বীমা বাধ্যতামুলক করন, সরকারী ও বেসরকারী সম্পদ রক্ষায় বীমার ভূমিকা ও বীমার উপকারিতা সম্পর্কে জন সচেতনতা সৃষ্টিসহ এ শিল্পেটিকে সর্বাধিক গুরুত্বের সাথে বিবেচনা ও এর উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহন করবে। বিগত কয়েক বছর যাবৎ এ দেশের জনগনের নিকট বীমা সুবিধা দেয়ার জন্য IDRA এর উদ্দোগে বিভাগীয় পর্যায়ে বীমা মেলা হচ্ছে। এতে জনগনের অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি IDRA বীমা ব্যবসা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যা ও দোষক্রটি নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় সংশোধের জন্য জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, মন্ত্রণালয় ও IDRA এর নিবিড় তদারকী, বীমা কোম্পানীসমূহের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, বাজারে নতুন নতুন প্রোডাক্ট আনয়ন, বীমা বাজারে সুস্থ প্রতিযোগীতা সৃষ্টি, সময়োপযোগী বীমা আইন সংশোধন এবং সবোপরি কর্পোরেট গভর্ননেন্স নিশ্চিত করার মাধ্যমে বীমা সেক্টর পারে জনগনের আস্থা অর্জন করছে। জনগনের স্বতঃস্ফূর্ত আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বীমা বাজার গড়া সম্ভব। শক্তিশালী বীমা বাজার সৃষ্টি হলেই বীমা বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

ইসলামী ইন্সুরেন্স বাংলাদেশ লিঃ এর ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সাফল্যঃ

বাংলাদেশ একটি মুসলিম জনবহুল দেশ। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির কারনে মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রচলিত বীমা ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ কম। তাই বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীকে বীমা সুবিধার সাথে সম্পৃক্ত করার নিমিত্তে ইসলামী শরীয়াভিক্তিক বীমা চালু করার উদ্দেশ্যে গত ২৯শে ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালে তৎকালীন মুখ্য বীমা নিয়ন্ত্রক, বীমা অধিদপ্তর, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইসলামী ইন্সুরেন্স বাংলাদেশ লিঃ নামে প্রথম ইসলামী বীমা কোম্পানী রূপে অনুমোদন প্রাপ্ত হয়। বাংলাদেশে তাকাফুল অথবা ইসলামী বীমা ব্যবসা ইসলামী শরীয়াহ ও বিধি মাফিক করতে ২০০২ সালে ১৩ই অক্টোবর সেন্ট্রাল শরীয়াহ কাউন্সিল ফর ইসলামিক ইন্সুরেন্স শিরোনামে একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের তৎকালীন খতিব মরহুম আল্লামা উবায়দুল হক এই কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং অধ্যক্ষ সাইয়্যেদ কামালুদ্দীন জাফরী এবং অধ্যাপক মাওলানা এ বি এম মাসুম বিল্লাহ যথাক্রমে উক্ত কাউন্সিলের সেক্রেটারী জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল নিবার্চিত হয়। কাউন্সিল গঠনের শুরু থেকে এ প্রতিষ্ঠান তাকাফুলের সাথে ইসলামী শরীয়াহ সম্পর্কিত বিধি প্রনয়নের পরিকল্পনা নেয়। বাংলাদেশে বীমা ব্যবসা সময়োপযোগী, বিধি ও নিয়ম মাফিক করতে ইন্সুরেন্স এ্যাক্ট, ২০১০ (এ্যাক্ট ১৩-২০১০) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ (IDRA) ২০১০ (এ্যাক্ট ১২-২০১০) শিরোনামে একটি পূর্ণাঙ্গ বীমা নীতিমালা প্রনয়ন করা হয়। ইসলামী বীমার ধারনা ইন্সুরেন্স এ্যাক্ট এর ৭ নং বিধিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। উক্ত বিধি অনুযায়ী ইসলামী ব্যবসা পরিচালনার জন্য আলাদাভাবে একটি নীতিমালা তৈরির প্রয়োজন যা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ (IDRA) এ্যাক্ট-২০১০ এর ৩০নং বিধি এবং বীমা এ্যাক্ট ২০১০ (এ্যাক্ট ৮,২০১০) এর ১৪৬নং বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত হওয়া প্রয়োজন। সেন্ট্রাল শরীয়াহ কাউন্সিল দুই বৎসর ব্যাপী পর্যালোচনার পর কাউন্সিল চুড়ান্তভাবে তাকাফুলের ধারনা সম্পর্কে বিধি প্রনয়নের খসড়া তৈরী করে এবং ৩৮নং বিধি অনুযায়ী ২০১২ সালের ৯ই অক্টোবর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মহোদয়ের দপ্তরে তাকাফুল বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তাবনা জমা দেয়া হয়েছে যা প্রক্রিয়াধীন আছে। ইসলামী ইন্সুরেন্স প্রচলিত বীমা ব্যবস্থার মধ্যে থেকেও শরীয়াহ কাউন্সিলের পরামর্শ অনুযায়ী মুনাফা ও সুদের টাকা আলাদা ব্যাংক হিসাবে রাখার ব্যবস্থা, বীমা গ্রহীতাদের স্বার্থ ও দাবীর বিষয়ে তদারকী করা, সিকিউরিটি ডিপোজিটের টাকা বাংলাদেশ গর্ভমেন্ট ইসলামী ইনভেষ্টমেন্ট বন্ড এ জমা করা, এক বৎসরের অধিক সময়ে রক্ষিত মুনাফার উপর যাকাত প্রদান করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে থেকেও ইসলামী ইন্সুরেন্স বাংলাদেশ লিঃ বাংলাদেশের ক্যাটাগরি কোম্পানী রূপে তার সুনাম ও মর্যাদা রক্ষা করে চলছে। এক নজরে পাঁচ বছরের উন্নয়ন সংখ্যায় ও রেখা চিত্র (IIBL Performance at a glance) শিরোনামে ........... পৃষ্ঠায় প্রর্দশিত হয়েছে। ২০২০ সালে কোম্পানীর কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে দেয়া হলোঃ

প্রিমিয়াম আয়ঃ

নন লাইফ বীমা ব্যবসার প্রধান আয় হচ্ছে প্রিমিয়াম আয়। ২০২০ সালে সরকারী প্রিমিয়াম ব্যবসায়ের আনুপাতিক অংশ ৭৩.৪৬ মিলিয়ন সহ ৬৬৪.৭৩ মিলিয়ন টাকা গ্রস প্রিমিয়াম আয় হয়েছে। এ প্রিমিয়ামের আয় থেকে পুনঃ বীমা বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৬৭.২৫ মিলিয়ন টাকা। অতএব নীট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৪৯৭.৪৮ মিলিয়ন টাকা। ২০১৯ সালে গ্রস প্রিমিয়াম ও নেট প্রিমিয়াম ছিল যথাক্রমে ৫৫৬.৯৪ মিলিয়ন ও ৩৮০.৫০ মিলিয়ন টাকা। সুতরাং ২০২০ সালের গ্রস প্রিমিয়াম ও নেট প্রিমিয়ামের প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ১৬.২১% ও ২৩.৫১%। ২০২০ সালের অবলিখন বা রেভিনিউ হিসাব থেকে আয় হয়েছে ১০৫.৯৮ মিলিয়ন টাকা। ২০১৯ সালে অবলিখন বা রেভিনিউ হিসাব থেকে আয় হয়েছিল ৬৯.৩১ মিলিয়ন টাকা। সুতরাং ২০২০ সালে অবলিখন বা রেভিনিউ আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪.৫০%।

শ্রেণীওয়ারী প্রিমিয়াম আয়ঃ

অগ্নি বীমাঃ

২০২০ সালে অগ্নি বীমা প্রিমিয়াম খাতে আয় হয়েছে ২৯০.৭১ মিলিয়ন টাকা। পুনঃ বীমা, বীমা দাবী, ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও অনুত্তীর্ণ ঝুঁকির সঞ্চিতি বাদ দেয়ার পর অগ্নিবীমা খাতে অবলিখন বা রেভিনিউ আয় হয়েছে ১০.২৭ মিলিয়ন টাকা, যেখানে ২০১৯ সালে লোকসান হয়েছে ৩৭.৩৭ মিলিয়ন টাকা। পূর্বের অগ্নি দাবীর পুনঃ বীমাকারী থেকে আদায়, অগ্নি বীমার প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধি হওয়ায় গত বৎসরের লোকসান কাটিয়ে এ ব্যয় আয় হয়েছে।

নৌ বীমাঃ

২০২০ সালে নৌ বীমা বিভাগে মেরীন হাল সহ গ্রস প্রিমিয়াম অর্জিত হয়েছে ২৪৫.১৮ মিলিয়ন টাকা। পুনঃ বীমা, বীমা দাবী ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও অনুত্তীর্ণ ঝুঁকির সঞ্চিতি বাদ দেয়ার পর এ খাতে অবলিখন বা রেভিনিও আয় হয়েছে ৭৫.০৬ মিলিয়ন টাকা, যা গত বছরে ছিল ৯৫.৩৯ মিলিয়ন টাকা। এ খাতে অবলিখন মুনাফা সর্বোচ্চ।

মটর বীমাঃ

২০২০ সালে মটরযান ব্যবসা থেকে মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৭০.৭১ মিলিয়ন টাকা। পুনঃ বীমা, বীমা দাবী, ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও অনুত্তীর্ণ ঝুঁকির সঞ্চিতি বাদ দেয়ার পর অবলিখন বা রেভিনিউ মুনাফা হয়েছে ২৬.৬৫ মিলিয়ন টাকা। ২০১৯ সালে এ খাতে রেভিনিউ মুনাফা হয়েছিল ১৮.৬৮ মিলিয়ন টাকা।

বিবিধ বীমাঃ

অগ্নি, নৌ, নৌ হাল ও মটর যান বীমা ব্যতিত অন্যান্য/বিবিধ বীমা ব্যবসা হতে প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৪৭.২১ মিলিয়ন টাকা। পুনঃ বীমা, বীমা দাবী, ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও অনুত্তীর্ণ ঝুঁকির সঞ্চিতি বাদ দেয়ার পর এ খাতে অবলিখন/রেভিনিউ ক্ষতি হয়েছে ৫৯.৯৩ মিলিয়ন টাকা, যা গত বছরে অবলিখন/রেভিনিউ ক্ষতি ছিল ৭৪.০৪ মিলিয়ন টাকা। এ খাতে ঝুঁকি বেশী থাকায় পুনঃ বীমা খাতে ব্যয় বেশী হওয়ায় মুনাফা অর্জন দূষ্কর হয়েছে। উল্লেখ্য একই বীমাগ্রহীতার অন্যান্য শ্রেণীর ব্যবসা ধরে রাখার স্বার্থে বিবিধ বীমার ঝুঁকি গ্রহন করতে হয়েছে।

বীমা দাবী নিষ্পত্তিঃ

আমরা দ্রুত গ্রাহক সেবা প্রদান ও বীমা দাবী নিষ্পত্তির জন্য সর্বদা আমাদের গ্রাহকদের নিকট প্রতিশ্রম্নতিবদ্ধ। সব সময় দ্রুত গ্রাহক সেবা প্রদান ও বীমা দাবী নিষ্পত্তি করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমাদের লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে দ্রুত গ্রাহক সেবা প্রদান ও দ্রুত বীমা দাবী নিস্পত্তির মাধ্যমে বাজারে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। এজন্য পরম করুণাময়ের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ, আমি কোম্পানীর দাবী কমিটিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দ্রুত বীমা দাবী নিস্পত্তি সম্ভব হয়েছে। ২০২০ সালে অগ্নি, নৌ, মেরিন হাল, মটর যান ও বিবিধ দাবী বাবদ ৩২.৪৬ মিলিয়ন টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

বিনিয়োগ কার্যক্রমঃ

ক) স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগঃ ৬৫/২/২, পুরানা পল্টন, বক্স কালভার্ট রোড ঢাকায় অবস্থিত ডিআর টাওয়ারের ১২ তলায় সম্পূর্ণ অর্থাৎ ১৫,৭০৭ বর্গফুট জায়গায় সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ১৯৯,৯৪৪,০০০/- টাকা মূল্যে ক্রয় করা হয়েছিল। গত ২২/১২/২০২০ইং তারিখে রেজিষ্ট্রী করা হয়, রেজিষ্ট্রী খরচসহ ইহার ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৩,১০,৭০,১৫৯/- টাকা। ২০১০ সালে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ৭৬,৮৬২,০০০/- টাকা মূল্যে ৬,১৪০ বর্গফুট স্পেস রূপায়ন তাজ এর ৩য় তলায় ১, ১/১ নয়া পল্টনে ক্রয় করা হয়েছিল যা বর্তমানে ভাড়া দেয়া হয়েছে। ইহাও রেজিষ্ট্রী প্রক্রিয়াধীণ।

খ) অন্যান্য বিনিয়োগঃ ২০২০ সালে শরীয়াহ ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক সমূহে ৮৮.৩৫ মিলিয়ন টাকা স্থায়ী আমানতে, কনভেনশনাল ব্যাংকে স্থায়ী আমানতে ৫৩.৯০ মিলিয়ন টাকা, বাংলাদেশ সরকার ট্রেজারী বন্ড এ ১৯.০০ মিলিয়ন টাকা এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর শেয়ারে ৮.৬৭ মিলিয়ন অর্থাৎ সর্বসাকূল্যে ১৬৯.৯২ মিলিয়ন টাকা নতুন স্থায়ী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩১/১২/২০২০ইং তারিখে খাতওয়ারী বিনিয়োগের চিত্র দেয়া হলোঃ

 

খাত

মিলিয়ন টাকা

১।

শরীয়াহ ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক সমূহে স্থায়ী আমানত

৩২৩.৮৫

২।

শরীয়াহ ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক সমূহে স্বল্প মেয়াদী আমানত

২২.৭৫

৩।

বাংলাদেশ সরকার ইসলামী বিনিয়োগ বন্ড

১.০০

৪।

কনভেনশনাল ব্যাংক সমূহে স্থায়ী আমানত

৩১৪.২০

৫।

কনভেনশনাল ব্যাংক সমূহে স্বল্প মেয়াদী আমানত

৪.১৮

৬।

বাংলাদেশ সরকার ট্রেজারী বন্ড

৫৩.০০

৭।

শেয়ার বিনিয়োগ

১০.৭৫

 

মোট

৭২৯.৭৩


লাভ-লোকসান হিসাবঃ

২০২০ সালে ব্যাংকে বিনিয়োগের মুনাফা, অফিস ভাড়া, ডিভিডেন্ড ও বিবিধ খাতে আয় হয়েছে ৩৮.০৭ মিলিয়ন টাকা। ব্যাংকের মুনাফা হার কমে যাওয়ার পরও স্থায়ী আামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর মুনাফা বৃদ্ধি হয়েছে। বীমা ব্যবসা থেকে অবলিখন মুনাফা হয়েছে ১০৫.৯৮ মিলিয়ন টাকা। এ আয় থেকে অবন্টনযোগ্য (Unallocated) ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাদ দেয়ার পর নীট মুনাফা দাঁড়ায় ১০৮.২০ মিলিয়ন টাকা। ২০১৯ সালে কর পূর্ব নীট মুনাফা হয়েছিল ৮৪.৭৭ মিলিয়ন টাকা। গত বছরের তুলনায় ২০২০ সালে নীট মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে ২৩.৪৩ মিলিয়ন টাকা বা ২৭.৬৪%।

মুনাফা বন্টন হিসাবঃ

বিগত বছরের জেরসহ ২০২০ সালে মুনাফা বন্টন হিসাবে জেরের পরিমাণ হচ্ছে ১২১.০৪ মিলিয়ন টাকা। এ জের নিম্নোক্তভাবে বন্টন করা হয়েছে।

 

খাত

মিলিয়ন টাকা

১।

নগদ লভ্যাংশ পরিশোধ (২০১৯ সালের নগদ ডিভিডেন্ড)

৩৫.৬৪

২।

অস্বাভাবিক ক্ষতির জন্য সংরক্ষিত তহবিল ২০২০ (প্রিমিয়াম আয়ের ৬.৭৭%)

৪৫.০০

৩।

লভ্যাংশ বিতরনযোগ্য আয় (২০২০ সাল)

৪০.৪০

 

মোট

১২১.০৪


মুনাফা ও লভ্যাংশঃ

২০২০ সালে কোম্পানীর কর পূর্ব নীট মুনাফা হয়েছে ১০.৮২ মিলিয়ন টাকা। পরিচালনা পর্ষদ উক্ত মুনাফা থেকে শেয়ার হোল্ডারদের জন্য পরিশোধিত মূলধনের উপর ১০% স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান এবং ডেস্ক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য কর পূর্ব নীট মুনাফা হতে ৫.৫৪% অর্থাৎ ৬.০০ মিলিয়ন টাকা বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) অনুযায়ী কর্মচারী মুনাফা অংশগ্রহন তহবিলে (WPPF) স্থানান্তর এবং উহা থেকে উৎসাহ বোনাস প্রদানের জন্য সুপারিশ করেছে। ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি আয় (EPS) ২.১৮ টাকা এবং শেয়ার প্রতি নীট সম্পদের পরিমাণ ১৫.৮৯ টাকা। ২০১৯ সালে শেয়ার প্রতি আয় (EPS) ১.৬৫ টাকা এবং শেয়ার প্রতি নীট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪.১৪ টাকা।

সঞ্চিতি ও উদ্বৃত্তঃ

কোম্পানীর আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ় ও দাবী পরিশোধের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২০ সালে অস্বাভাবিক ক্ষতি খাতে ৪৫.০০ মিলিয়ন টাকা সঞ্চিতি রাখা হয়েছে। এতে কোম্পানীর সর্বমোট সঞ্চিতি ও উদ্বৃত্ত পরিমাণ দাঁড়ালো ১৮০.১০ মিলিয়ন টাকা।

ক্রেডিট রেটিং ও সলভেন্সি মার্জিনঃ

নিয়ন্ত্রণ কতৃর্পক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক আরগুছ (Argus) ক্রেডিট রেটিং সার্ভিসেস লিঃ ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আমাদের কোম্পানীর ক্রেডিট রেটিং কাজ সম্পন্ন করেছে। তাঁদের প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানী দীর্ঘ মেয়াদে AA ও স্বল্প মেয়াদে ST-2 রেটিং অর্জন করেছে, যা কোম্পানী বীমা দাবী পরিশোধের ক্ষমতা সন্তোষজনক, আর্থিক সাফল্য, উন্নত সলভেন্সি, অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনা, আর্থিক স্বচ্ছলতা ও নিয়মাতান্ত্রিক অভ্যন্তরিন নিয়ন্ত্রণ নির্দেশ করে।

তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নঃ

বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তথ্য প্রযুক্তি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য প্রযুক্তির এ ব্যাপক সুবিধা কাজে লাগিয়ে বীমা গ্রাহক ও অন্যান্য সকল পক্ষকে দ্রুত ও অধিকতর সেবা প্রদানের জন্য বর্তমানে কোম্পানী নিজস্ব সার্ভার এর মাধ্যমে Online সেবা প্রদান করছে। এতে করে প্রধান কার্যালয়ের সাথে শাখাগুলোর সার্বক্ষণিকভাবে নেটওয়ার্কিং যোগাযোগ রক্ষা করা সহজতর হয়েছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কতৃর্পক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত UMP Portal এর মাধ্যামে তাদের চাহিদা মোতাবেক আমাদের বীমা সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করা হচ্ছে। জনগনের মধ্যে বীমা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বীমা সংক্রান্ত তথ্যাদি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কতৃর্পক্ষের পরামর্শক্রমে কোম্পানীর Website এ প্রদান করা হয়েছে। কোম্পানী শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সময় থেকে কোম্পানীর শেয়ার সংশিষ্ট যাবতীয় তথ্য স্টক একচেঞ্জ এর সহিত Website এ Link দেয়া আছে।

পরিচালকবৃন্দের অবসর গ্রহণ ও পুনঃ নিয়োগঃ

কোম্পানীর সংঘ বিধিমালার ৯৫নং ধারা অনুযায়ী গ্রুপ অর্থাৎ উদ্যোক্তা পরিচালকদের মধ্য হতে পর্যায়ক্রমে এক তৃতীয়াংশ পরিচালক বার্ষিক সাধারণ সভায় দায়িত্ব হতে অবসর গ্রহণ করবেন এবং অবসর প্রাপ্ত পরিচালকগণ পুনঃ নিবার্চন ও মনোনয়নের যোগ্য হবেন। সে হিসাবে এ বছর অর্থাৎ ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় নিম্নোক্ত পরিচালকগণ অবসর গ্রহণ করবেন এবং পুনঃ নিবার্চন ও মনোনয়নের যোগ্য হবেন।

(১) জনাব এম তাজুল ইসলাম
(২) আলহাজ্ব মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান
(৩) জনাব নুর মোহাম্মদ
(৪) মিসেস শায়লা পারভীন
(৫) আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল হালিম

এছাড়া বীমা আইন ২০১০ এর ৭৬নং ধারায় কোম্পানীর পরিচালকের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ (বিশ) জন রাখার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালক ১২ (বার) জন, পাবলিক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ০৬ (ছয়) জন এবং স্বতন্ত্র পরিচালক ০২ (দুই) জন হতে হবে, যার প্রেক্ষিতে কোম্পানীর ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় পাবলিক শেয়ারহোল্ডার থেকে পরিচালক নির্বাচনের লক্ষ্যে দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে এক্ষেত্রে ৪টি আবেদনপত্র জমা পড়ে। এমতাবস্থায় অন্য কোন প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নিম্নোক্ত ৪ (চার) জনের মধ্যে ২ (দুই) জন পুনঃ নির্বাচিত এবং অপর ২ (দুই) জন নির্বাচিত হন।

(১) মিসেস শাহানা হানিফ (পুনঃ নির্বাচিত)
(২) রিফা নানজিবা সাঈদ (পুনঃ নির্বাচিত)
(৩) জনাব নূরুল আবছার
(৪) জনাব উসামা ফিদা

স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগঃ

বীমা আইন ২০১০ অনুযায়ী কোম্পানীতে ২জন স্বতন্ত্র পরিচালক রাখার বিধান রয়েছে, সে আলোকে কোম্পানীর ১৬তম বার্ষিক সাধারন সভায় অনুমোদন সাপেক্ষে জনাব জাবেদ আহমেদ, ৩২ বিসি দাস ষ্ট্রীট, লালবাগ, ঢাকা-কে স্বাধীন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তাঁর নিয়োগ পরবতীর্ ৩ বছর পূর্ণ হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ইং তারিখে অনুষ্ঠিত পরিচালক পরিষদের ১৯৯ তম সভায় তাঁকে পুনঃ মেয়াদ অর্থাৎ ৩ বছরের জন্য নিয়োগ এবং জনাব ইমরান আহমেদ, ১০৪/১, কাজী আলাউদ্দিন রোড, ঢাকা-কে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়, যা ১৯ তম বার্ষিক সাধারন সভায় অনুমোদন দেয়া হয়।

নিয়োগ ও পারিশ্রমিক কমিটি (Nomination and Remuneration Committee):

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ একচেঞ্জ কমিশনের ৩ জুন ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত নোটিফিকেশন নম্বর BSEC/CMRRCD/2006-158-2007/ADMIN/80 মোতাবেক কর্মকতার্ ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও পারিশ্রমিক সংক্রান্ত সহায়তা করার জন্য বোর্ড স্বতন্ত্র পরিচালক জনাব জাবেদ আহমেদকে চেয়ারম্যান করে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখ অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ১৯৬ তম সভায় ৪ সদস্য বিশিষ্ট Nomination and Remuneration Committee (NRC) গঠন করা হয় এবং গত ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০ তারিখ অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ২১০ তম সভায় পুনঃ গঠন করা হয়। এ কমিটি গঠনের শুরু থেকে কোম্পানীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও পারিশ্রমিক নির্ধারন, মূল্যায়ন, পদোন্নতি, পদাবনতি, বদলি ও কর্মচারী উন্নয়ন সংক্রান্ত কার্যাদি সম্পাদন করে বোর্ডকে সহায়তা দিয়ে আসছে। ২০২০ সালে উক্ত কমিটির দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্ভিস রুলস সংক্রান্ত, পদোন্নতি ও বেতন-ভাতাদি পর্যালোচনা করা হয়।

২০২০ সালে বোর্ড সভার সংখ্যা, পরিচালকদের উপস্থিতির সংখ্যা, পরিচালকদের ফিস, বার্ষিক প্রতিবেদনে Annexure-1 ............ প্রদর্শিত হয়েছে।

নিরীক্ষক নিয়োগঃ

কোম্পানীর ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভার অনুমোদনক্রমে ২০২০ সালের জন্য মেসার্স মাহফেল হক এন্ড কোং চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস, বিজিআইসি টাওয়ার, ৩৪ তোপখানা রোড, ঢাকা ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা পারিতোষিক এর বিনিময়ে কোম্পানীর ষ্টেটুটরী অডিটর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তাঁরা এ বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের জন্য নিয়োগ প্রাপ্তির জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করে। পরিচালনা পর্ষদ এর সভায় এ বিষয়ে আলোচনা পর্যালোচনার পর মেসার্স মাহফেল হক এন্ড কোং চার্টাড র্ একাউন্ট্যান্টসকে ২০২০ সালের জন্য ৩,৫০,০০০/- (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা পারিতোষিকে ষ্টেটুটরী নিরীক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করে।

শরীয়াহ কাউন্সিল সম্পর্কিত প্রতিবেদনঃ

ইসলামী ইন্সুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেড একটি শরীয়াহ ভিত্তিক কোম্পানী। বীমা আইন, ২০১০-এ ইসলামী বীমা কোম্পানীসমূহ স্বীকৃতি লাভ করলেও এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোন প্রবিধান জারী না হওয়ায় ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক কোম্পানীর সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে শীঘ্রই ইসলামী বীমা প্রবিধানমালা জারী হবে এবং এতে করে ইসলামী বীমা কোম্পানীগুলোর জন্য শরীয়াহ মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনা সহজতর হবে। তথাপি আমাদের কোম্পানীর কার্যক্রম অধ্যক্ষ মাওলানা কামালুদ্দীন জাফরীর নেতৃত্বে দেশ বরেণ্য ওলামায়ে কেরামের পরামর্শ মোতাবেক পরিচালিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার মধ্যেও কোম্পানীর যাবতীয় কার্যক্রমে যথাসম্ভব ইসলামী শরীয়াহ পরিপালন করা হচ্ছে।

ইসলামী ইন্সুরেন্স ফাউন্ডেশনঃ

কোম্পানীর মেমোরেন্ডাম অব এ্যাসোসিয়েশন এর ৩৪ নং ধারা অনুযায়ী ইসলামী ইন্সুরেন্স ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়। উক্ত ফাউন্ডেশন অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের সাহায্য এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সাধ্যানুযায়ী অবদান রাখছে। ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার লক্ষ্যে শক্তিশালী ফান্ড গঠন করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোম্পানী অবদান রাখতে পারছেনা। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইসলামী ইন্সুরেন্স ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে তা বাস্তবায়নে কোম্পানী সদা সচেষ্ট। ইতোমধ্যে ফাউন্ডেশনের রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত কোম্পানী Corporate Social Responsibility (CSR) এর আওতায় ২০২০ সালে দুঃস্থদেরকে ৩,৩৯,২৭০/- (তিন লক্ষ ঊনচল্লিশ হাজার দুইশত সত্তর) টাকা প্রদান করা হয়েছে।

কর্পোরেট সুশাসনঃ

প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন (Corporate Governance) অপরিহার্য। কপোর্রেট গর্ভনেন্স এর সাথে সংশ্লিষ্ট হচ্ছে বোর্ডের পরিচালক মন্ডলী, বোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন কমিটি, ব্যবস্থাপনা পর্ষদ, বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা কমিটি, সিদ্ধান্ত গ্রহনকারী ব্যক্তিবর্গ। এ ছাড়াও কর্পোরেট সুশাসন প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী ইন্সুরেন্স কর্পোরেট সুশাসন অনুশীলনের জন্য বোর্ড কর্তৃক নির্দেশিত সব পরিকল্পনা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তসমূহ মুখ্য নির্বাহী কতর্মকর্তার নেতৃত্বে বাস্তবায়ন করে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক প্রবর্তিত কপোর্রেট গর্ভনেন্স গাইড লাইন মেনে চলা হচ্ছে।

২০২২ সালের জন্য কোম্পানীর পরিকল্পনাঃ

২০২২ সালে কোম্পানী যাতে পূর্বেকার বছরগুলোর চেয়ে আরও বেশি প্রিমিয়াম আয় তথা ব্যবসায়িক সফলতা অর্জন করতে পারে সেভাবে কর্তৃপক্ষ লক্ষ্য স্থির করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সকল শাখা প্রধান, বিভাগীয় প্রধানসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করা এবং সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেয়া হয়। আমাদের পরিচালনা পর্ষদ সার্বিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং আমরা আশা করি এ কোম্পানী এদেশের বীমা অঙ্গনে একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এছাড়া আমার বিশ্বাস ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের পরিশ্রম, সততা ও আন্তরিক সহযোগিতার ফলে কোম্পানীর ভবিষ্যত চলার পথ আরো বেগবান হবে, ইনশাআল্লাহ।

কৃতজ্ঞতাঃ

পরিশেষে আমি পরিচালক মন্ডলীর পক্ষ থেকে এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে সকল সম্মানিত গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার ও শুভানুধ্যায়ীদের অব্যাহত সমর্থন ও সর্বাঙ্গীন সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানচ্ছি। সকলের সক্রিয় সহযোগিতা, গঠনমূলক ও মূল্যবান পরামর্শ কোম্পানীর কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে যথেষ্ট সহায়ক হয়েছে তা অনস্বীকার্য। একই সাথে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ, রেজিষ্ট্রার অব জয়েন্ট ষ্টক কোম্পানীজ এন্ড ফার্ম, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরী অব বাংলাদেশ লিঃ, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এ্যাসোসিয়েশন, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স একাডেমী, জাতীয় রাজস্ববোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও নিরীক্ষককে সকল প্রকার সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এবং ভবিষ্যতেও সকলের অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

আমি পরিচালক পর্ষদের পক্ষ থেকে আমার সুহৃদ সহকমীর্বৃন্দ, এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান, ক্লেইমস কমিটির চেয়ারম্যান, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ও শরীয়াহ কাউন্সিল এর সম্মানিত সদস্যবৃন্দকে কোম্পানীর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তাঁদের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য মোবারকবাদ জানাচ্ছি এবং আমাকে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে কোম্পানীর সাফল্যের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখার জন্য কোম্পানীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কোম্পানী সচিব, শাখা প্রধান, বিভাগীয় প্রধান ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও কর্মনিষ্ঠার জন্য ধন্যবাদ ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি। সেই সঙ্গে আশা করছি আগামী দিনগুলোতেও কোম্পানীর সামগ্রিক উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা, আন্তরিকতা ও কর্মনিষ্ঠা আরো বৃদ্ধি পাবে, যা কোম্পানীকে ও নিজেদের গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহতায়ালার প্রতি অসীম শুকরিয়া জ্ঞাপন করে এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করে বক্তব্য শেষ করছি। সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।


পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে
(মোহাম্মদ সাঈদ)